Skip to main content
Reg. CodeReg.: HSM4317859Licence No.Licence: HSM40797Details →
Pioneer Hospital
24/7 01719-327555
শিশু স্বাস্থ্য

হাম (Measles) সম্পর্কে যা জানা জরুরি: লক্ষণ, সংক্রমণ, জটিলতা ও প্রতিরোধ

Dr. Jahan Ahmed PoragConsultant · Paediatrics

শিশু স্বাস্থ্য

হাম (Measles) সম্পর্কে যা জানা জরুরি: লক্ষণ, সংক্রমণ, জটিলতা ও প্রতিরোধ

শিশুর হাম কীভাবে ছড়ায়, এর প্রধান লক্ষণ ও জটিলতা কী, কখন দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে এবং টিকার মাধ্যমে কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়—জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

ভূমিকা

হাম বা Measles একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। অনেকেই হামকে শুধু “গায়ে লাল দানা ওঠা” রোগ হিসেবে মনে করেন। কিন্তু হাম কখনো কখনো নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা, কানের সংক্রমণ, এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে।

তাই শিশুর জ্বরের সঙ্গে র‍্যাশ দেখা দিলে বিষয়টিকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো—হাম প্রতিরোধযোগ্য। নিয়ম অনুযায়ী টিকা নেওয়া হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি।

হাম কী এবং কীভাবে ছড়ায়?

হাম হলো Measles virus দ্বারা সৃষ্ট একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। এটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি বা কথা বলার সময় শ্বাসতন্ত্রের ক্ষুদ্র ড্রপলেট ও এরোসলের মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে।

আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে টিকা না নেওয়া বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা না থাকা ব্যক্তির আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। একই ঘর বা বদ্ধ জায়গায় আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে থাকলেও সংক্রমণ হতে পারে।

হামের ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার পর সাধারণত কয়েক দিন কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নাও থাকতে পারে। এরপর জ্বর ও শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গ শুরু হয় এবং পরে সাধারণত মুখমণ্ডল থেকে শুরু হয়ে শরীরে র‍্যাশ ছড়িয়ে পড়ে।

হামের প্রধান লক্ষণগুলো কী?

হামের শুরুতে সাধারণত উচ্চমাত্রার জ্বর দেখা যায়। এর সঙ্গে থাকতে পারে—

  • কাশি
  • নাক দিয়ে পানি পড়া
  • চোখ লাল হওয়া বা পানি পড়া
  • শিশুর দুর্বলতা ও অস্বস্তি
  • মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ—যাকে Koplik spots বলা হয়
  • কয়েক দিন পর মুখমণ্ডল থেকে শুরু হয়ে শরীরে ছড়িয়ে পড়া লালচে র‍্যাশ

র‍্যাশ সাধারণত প্রথমে মুখ বা চুলের গোড়ার দিকে দেখা যায় এবং পরে ধীরে ধীরে শরীরের নিচের দিকে ছড়িয়ে যেতে পারে।

তবে প্রতিটি শিশুর ক্ষেত্রে লক্ষণ একই রকম নাও হতে পারে। তাই শুধু র‍্যাশ দেখে নিজে থেকে হাম নিশ্চিত করা উচিত নয়।

হাম কতদিন সংক্রমিত করতে পারে?

হাম খুব সহজে ছড়ায়। সাধারণভাবে র‍্যাশ ওঠার প্রায় ৪ দিন আগে থেকে র‍্যাশ ওঠার প্রায় ৪ দিন পর পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের সংক্রমিত করতে পারে। গুরুতরভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া ব্যক্তির ক্ষেত্রে সংক্রমণকাল আরও দীর্ঘ হতে পারে।

তাই শিশুর হাম সন্দেহ হলে তাকে স্কুল, ডে-কেয়ার, কোচিং বা ভিড়ের জায়গায় না পাঠিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ছোট শিশু, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম—তাদের থেকে দূরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

হাম কি শুধু একটি সাধারণ জ্বর-র‍্যাশের রোগ?

না। বেশিরভাগ শিশু সুস্থ হয়ে উঠলেও হাম থেকে গুরুতর জটিলতা হতে পারে। বিশেষ করে ছোট শিশু, অপুষ্ট শিশু এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের ঝুঁকি বেশি।

সম্ভাব্য জটিলতার মধ্যে রয়েছে নিউমোনিয়া, কানের সংক্রমণ, ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা, চোখের সমস্যা এবং মস্তিষ্কে প্রদাহ বা encephalitis। খুব বিরল ক্ষেত্রে হামের কয়েক বছর পর SSPE নামের একটি গুরুতর স্নায়বিক জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

তাই “হাম হলে এমনিতেই ভালো হয়ে যাবে”—এই ধারণা ঠিক নয়।

হাম হলে কখন দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে?

নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে—

  • শ্বাসকষ্ট বা খুব দ্রুত শ্বাস নেওয়া
  • শিশু অস্বাভাবিকভাবে নিস্তেজ, অচেতন বা জাগানো কঠিন
  • খিঁচুনি
  • পানি বা দুধ খেতে না পারা
  • বারবার বমি
  • প্রস্রাব খুব কমে যাওয়া বা পানিশূন্যতার লক্ষণ
  • নীলচে হয়ে যাওয়া
  • খুব বেশি দুর্বল হয়ে পড়া
  • তীব্র মাথাব্যথা বা ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া
  • চোখে গুরুতর সমস্যা বা দৃষ্টির পরিবর্তন

শিশুর অবস্থা দ্রুত খারাপ হলে অপেক্ষা না করে জরুরি বিভাগে যেতে হবে।

হাম হলে ঘরে কী করবেন?

হামের নির্দিষ্ট কোনো routine antiviral চিকিৎসা সাধারণত নেই। চিকিৎসা মূলত supportive care—অর্থাৎ শিশুর জ্বর, পানিশূন্যতা ও অন্যান্য উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা।

শিশুকে পর্যাপ্ত তরল, বুকের দুধ এবং বয়স উপযোগী খাবার দিতে হবে। বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে এবং জ্বর বা অস্বস্তির জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ দিতে হবে।

Vitamin A-এর প্রয়োজন হতে পারে এবং শিশুদের হামের ক্ষেত্রে চিকিৎসক বয়স ও পরিস্থিতি অনুযায়ী Vitamin A দিতে পারেন। নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা উচিত নয়; ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ বা জটিলতার সন্দেহ থাকলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক দেবেন।

হাম সন্দেহ হলে শিশুকে আলাদা রাখা এবং চিকিৎসকের সঙ্গে আগে যোগাযোগ করে যাওয়ার ব্যবস্থা করা ভালো, যাতে অপেক্ষাকক্ষে অন্য শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ না ছড়ায়।

অভিভাবকদের জন্য সংক্রমণকালীন করণীয়

হাম সন্দেহ হলে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখুন—

  1. শিশুকে স্কুল, ডে-কেয়ার ও জনসমাগম থেকে দূরে রাখুন।
  2. একই ঘরে ছোট শিশু বা টিকা না নেওয়া ব্যক্তির সংস্পর্শ কমান।
  3. কাশি-হাঁচির সময় মুখ ও নাক ঢাকার অভ্যাস করান।
  4. ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন।
  5. শিশুর ব্যবহৃত জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখুন।
  6. পরিবারের অন্য সদস্যদের টিকার ইতিহাস যাচাই করুন।
  7. হামের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন—বিশেষ পরিস্থিতিতে post-exposure vaccination বা immunoglobulin প্রয়োজন হতে পারে।
  8. শিশুর অবস্থা খারাপ হলে ঘরে অপেক্ষা না করে হাসপাতালে যান।

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো উপায়—টিকা

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো টিকা নেওয়া। বাংলাদেশে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি অনুযায়ী শিশুকে নির্ধারিত বয়সে MR (Measles-Rubella) টিকা দিতে হয়।

কোনো ডোজ বাদ পড়ে গেলে বা শিশুর টিকা সম্পূর্ণ হয়েছে কি না জানা না থাকলে স্থানীয় EPI কেন্দ্র বা চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। টিকা সম্পর্কে ভুল তথ্য বা গুজবের কারণে শিশুর টিকা বন্ধ করা উচিত নয়।

একটি শিশুকে টিকা দেওয়া শুধু সেই শিশুকেই সুরক্ষা দেয় না—সমাজের অন্য শিশুদেরও সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।

শেষ কথা

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য রোগ। জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং পরে সারা শরীরে র‍্যাশ—এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে হাম সন্দেহ করা যেতে পারে। তবে সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।

অভিভাবক হিসেবে আমাদের তিনটি বিষয় মনে রাখা সবচেয়ে জরুরি:

টিকা সময়মতো দিন → হাম সন্দেহ হলে শিশুকে আলাদা রাখুন → বিপদের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যান।

সচেতনতা, সময়মতো চিকিৎসা এবং টিকাদানের মাধ্যমে আমরা শিশুদের হাম ও এর গুরুতর জটিলতা থেকে অনেকটাই রক্ষা করতে পারি।

নোট: এই লেখাটি জনসচেতনতামূলক। শিশুর ব্যক্তিগত চিকিৎসা, টিকা বা ওষুধের সিদ্ধান্তের জন্য শিশু বিশেষজ্ঞ/যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

This article is general health information reviewed by Pioneer Hospital. It is not a diagnosis or a substitute for consulting a doctor. In an emergency, call the 24-hour hospital line.

About the author

Dr. Jahan Ahmed PoragConsultant, Paediatrics · Jalalabad Ragib Rabeya Medical College
Sees patients at Pioneer Hospital
Days
Saturday- ThursdayClosed: Friday
Chamber time
2.30 PM - 4.00 PM
Serial number
01719327555
Qualifications
MBBS, DCH
BMDC Reg.
A 49982
Clinical interest
NICU and PICU.

Comments

No comments yet.

Leave a comment

Comments are reviewed before they appear. Please do not share personal medical details, phone numbers or emergencies here — call the hospital instead.

← All articles